শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনপবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) পালন বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউনিয়নেভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে নীলফামারীর ২২টি গ্রাম, ৪০০হাজার পরিবার পানি বন্দিমির্জা ফখরুল বলেছেন, পূজামন্ডপে হামলাকে পুঁজি করে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছেমাদকাসক্ত যুবককে জেল হাজতে প্রেরণ সৈয়দপুরের ওসি ও বাবা-মায়ের সহায়তায়তালামীযে ইসলামিয়ার পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালিদক্ষিণঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পুরন লেবুখালীর পায়রা সেতুর মাধ্যমেচোরাই মোটর সাইকেল সহ চোর গ্রেফতার সৈয়দপুরেএম ইলিয়াছ আলীর সন্ধান কামনায় বিশ্বনাথে দোয়া মাহফিলবিশ্বনাথে এমএ খান সেতুর টুল আদায় সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সভা

ভাবির বিরুদ্ধে দেবরের টাকা আত্মসাতের মামলা নীলফামারীর সৈয়দপুরে

মোঃজাকির হোসেন,নীলফামারী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮৬৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভাবির বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দেবর।



সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আক্তার জাহান বেবীসহ ২ জনকে আসামী করে প্রতারণার এ মামলা করেছেন সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়াবাসী মোঃ গাউসুল আজম ফারুকী। ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার তিনি নীলফামারী বিজ্ঞ আমলী আদালতে এ মামলা করেছেন। এতে তিনি মেয়র কর্তৃক ১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করছেন। এ নিয়ে শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গাউসুল আজম ফারুকী (৪০) তার বাবা কর্তৃক নির্মাণাধীন ৬ তলা বিশিষ্ট বাড়ির নকশা অনুমোদনের পর কাজ শুরু করেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি একাজের দায়িত্ব নেন। নির্মাণকাজ চলাকালে কিছু বিষয় নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরদের বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এরই জের ধরে পরে লিফট স্থাপনের জন্য নতুনভাবে নকশা অনুমোদনের আবেদন করলে পৌরসভার তৎকালীন মেয়র নকশা অনুমোদন করেন নাই। পরবর্তীতে গাউসুল আজম হাইকোর্টে রীট করলে রায় পান তিনি। তারপরও সেই সময়ের মেয়র নকশা অনুমোদন দেন নাই।

এমতাবস্থায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা হলে বর্তমান মেয়র রাফিকা আক্তার জাহান বেবী আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান। সেসময় তিনি তার ম্যানেজার মোঃ হাসানুজ্জামানের মাধ্যমে ২০ ডিসেম্বর দুপুর ২ টার দিকে গাউসুল আজম ফারুকীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রস্তাব দেন যে, নির্বাচনে বিজয়ী হলে লিফট স্থাপনের নকশা অনুমোদন করিয়ে দিবে। এজন্য ১ লাখ টাকা দাবি করেন। সে অনুযায়ী পরের দিন গাউসুল আজম ১ লাখ টাকা চেক প্রদান করেন। যার নং ৭৪৩১৮৫৯। যা ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে এবি ব্যাংক সৈয়দপুর শাখার হিসাব নং ৪২১১-৫৭৮১৪০-০০০ হতে চেকটি নগদায়ন তথা টাকা উত্তোলন করেন ম্যানেজার হাসানুজ্জামান আজমের মাধ্যমে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী নানা টাল বাহানা করে পৌরসভার তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলীকে নকশা অনুমোদনের কোন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে নিষেধ করেন।

এর প্রেক্ষিতে গত ৬ জুন ২০২১ তারিখে বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতির সভাপতির কাজে অভিযোগ করলে মেয়র লিফট স্থাপনের নকশার কাগজপত্র তার অফিসে জমা দিতে বলেন। এতে গত ২২ আগস্ট ২০২১ তারিখে কাগজপত্র জমা দেয় গাউসুল আজম। এরপর মেয়র আরও ১ লাখ টাকা দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় দিনের পর দিন নকশা অনুমোদন না দিয়ে হয়রানী করতে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে পৌরসভায় মেয়রের কাছে গেলে তিনি টাকা গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন। তাই নিরুপায় হয়ে গাউসুল আজম নীলফামারী বিজ্ঞ আমলী আদালতে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মেয়র রাফিকা জাহান বেবী ও তার ম্যানেজার হাসানুজ্জামান আজমকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন সৈয়দপুর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের পৌর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়ালীউর রহমান রতন, মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী’র ছোট বোনের স্বামী ও কামারপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জিকো আহমেদ এবং এবি ব্যাংক ম্যানেজার।

উল্লেখ্য, মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী’র প্রয়াত স্বামী সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আখতার হোসেন বাদলের সাথে গাউসুল আজম ফারুকীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা ছিলো। আখতার হোসেন বাদল তাকে আপন ভাইয়ের মত দেখতেন। একারণে তিনি গাউসুল আজমকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্যও করেছেন। এই সম্পর্কে মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী তার ভাবী। এখন সেই ভাবির বিরুদ্ধেই অর্থ আত্মসাতের মামলা করতে বাধ্য হলেন গাউসুল আজম।

মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে ন্যাস্ত করেছেন আদালত।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী’র সাথে মুঠোফোন ০১৭৯৭৮৬০২৬১ নম্বরে কল দিলে তিনি কথা না বলে পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না সরকারকে দেন। মুন্না সরকার জানান, যে তারিখে টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেসময় তিনি মেয়র ছিলেন না। বিষয়টি পৌর পরিষদে সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনী লড়াই করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000