শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা এ্যাথলেটিকস্ প্রতিযোগিতার উদ্ভোধনসৈয়দপুরে সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন সরকারসহ ৩ বিএনপি নেতার স্মরনসভা অনুষ্ঠিতমিরেরচরেই হবে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ -বিশ্বনাথে এমপি মোকাব্বিরনীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ভূয়া এনএসআই সদস্যসহ আটক-২ওসমানীনগরের নবগ্রাম স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ কমিটি গঠনবাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা কমিটি গঠনসৈয়দপুরে বিসিক শিল্পনগরীতে প্লাইউড কারখানায় আগুনে কোটি টাকার ক্ষতিজামায়াত আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ সমাবেশছাতকের খুরমা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবসে আলোচনা সভানীলফামারীর সৈয়দপুরে মহান বিজয় দিবস পালিত

১০ ই ডিসেম্বর বিশ্বনাথ মুক্ত দিবস

ফারুক আহমদ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৯১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আজ ১০ ডিসেম্বর। বিশ্বনাথ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সারা দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানী হায়েনা ও তাদের এদেশীয় দোসরদের পরাজিত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।



এর মাধ্যমে পাক হানাদার মুক্ত হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জনপদ ও প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা। এরপর থেকে ১০ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর কুরুয়া, তাজপুর, দয়ামীর, নাজিরবাজার, রশিদপুর শক্রমুক্ত করে এসে মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারেন তৎকালীন বিশ্বনাথ থানার ওসি আবুল হোসেন ও দারোগা আলী আহমদ এবং স্থানীয় রাজাকাররা স্বাধীনতার লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করতে দিচ্ছে না। এই সংবাদে উত্তেজিত হয়ে ৫নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার আবদুন নূরের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা সরাসরি উপজেলা সদরে পৌঁছে তাদের আত্মসমর্পণে করতে বাধ্য করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জোরালো ভূমিকার কারণে এ সময় স্থানীয় রাজাকাররা পালিয়ে গেলে থানা পুলিশ আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। আত্মসমর্পণের ঘটনায় রাত হয়ে যাওয়ায় ওই দিন আর বিজয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।

পরদিন ১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বিশ্বনাথ থানা সদরের রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিশ্বনাথকে শক্র মুক্ত ঘোষণা করেন ৫নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুন নূর।

এ সময় বিশ্বনাথ ইউনিয়নের উত্তর মিরেরচর গ্রামের আবদুল মুতলিব বিএসসিকে থানা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ যোগ দেন।

পতাকা উত্তোলনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়ে বিলম্ব হওয়ায় পরদিন আবার বিজয় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তাই ১১ ডিসেম্বর দৌলতপুর গ্রামের মরহুম আবদুর রব চৌধুরী ওরফে সমুজ মিয়ার সভাপতিত্বে বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিজয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ৫নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুন নূর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন একই সেক্টরের ল্যান্সনায়ক গোলাম মোস্থফা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মরমী কবি হাছন রাজার দৌহিত্র ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম দেওয়ান তৈমুর রাজা চৌধুরীর পুত্র দেওয়ান সমশের রাজা চৌধুরী, থানা প্রশাসক মরহুম আবদুল মুতলিব বিএসসি, মিরেরচর গ্রামের মরহুম আবদুল মন্নান মনাফ, চান্দসিরকাপন গ্রামের মরহুম ইসকন্দর আলী সারং, মরহুম কয়েছ চৌধুরী, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মুফতিরগাঁও গ্রামের আকমল আলী, ধর্মদা গ্রামের তজম্মুল আলী, নোয়াগাঁও গ্রামের মরহুম আছলম খান, রাজনগর গ্রামের একরাম মিয়া, নরসিংপুর গ্রামের মরহুম আইন উল্লাহ প্রমুখ।

এরপর থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বরকে ‘বিশ্বনাথ মুক্ত দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন। এবছরও বিশ্বনাথ প্রেস ক্লাব, বিশ্বনাথ থিয়েটারসহ বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উপলক্ষ্যে নানান কর্মসূচি গ্রহন করেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000