মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এম ইলিয়াছ আলীর সন্ধান কামনায় বিশ্বনাথে দোয়া মাহফিলবিশ্বনাথে এমএ খান সেতুর টুল আদায় সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সভাতরুণ সমাজকর্মী লিমনের উচ্ছ শিক্ষায় যুক্তরাজ্য গমন উপলক্ষে বিদায়ী সংবর্ধনাবিশ্বনাথে নানান আয়োজনে শেখ রাসেল দিবস ২০২১ পালনবিশ্বনাথের ছরকুম আলী দয়াল হত্যা- পুনঃ তদন্তে পিবিআইশেখ রাসেলের জন্ম দিবস পালিত বকশীগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগেনারী উন্নয়ন ফোরাম সৈয়দপুরের উদ্যোগে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল বিতরণডাক্তার ও সেবা নেই – রোগী আছে, হাসপাতাল আছেশিহাব উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিলেন, পূর্বপৈলনপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেবকশীগঞ্জে ছাত্রদলের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ইউনিটের সকল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

সৈয়দপুরে নৌকার প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রদল নেতা, এলাকায় তোলপাড়

মোঃজাকির হোসেন,নীলফামারী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সাবেক থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ চৌধুরী বুলবুল নৌকা প্রত্যাশী হওয়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে হওয়ার সুবাদে বিগত জীবনে ভিন্ন মতাদর্শের রাজনীতি করলেও উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের একটি অংশের কয়েকজন নেতা তাকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। তাদের সবুজ সংকেতেই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী তৎপরতা।

এতে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নিবেদিতপ্রাণ, যোগ্য, প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা এবং তাদের কর্মী সমর্থকসহ আওয়ামী ঘরানার সর্বস্তরের লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অসন্তোষ থেকে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও ঘৃণা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র চলছে সমালোচনার ঝড়। চেয়ারম্যান পদ হারানো সহ আগামীতে ইউনিয়নে দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আশংকা বিরাজ করছে সচেতন মহলে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মোখলেছুর রহমান স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভিশন বিডি টিভি’র ফেসবুক পেজে দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, বুলবুল পারিবারিকভাবেই আওয়ামী রাজনীতি বিরোধী মনোভাবাপন্ন। তার দাদা শাহজাহান চৌধুরী তালিকাভুক্ত রাজাকার। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কাশিরাম ইউনিয়ন তথা উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মৃৎশিল্প পল্লী চওড়া কুমারপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তার নেতৃত্বেই ৩০ জন মৃৎশিল্পীসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষকে পাকসেনারা হত্যা করেছে।

এছাড়াও বুলবুলের চাচা শওকত চৌধুরী সৈয়দপুর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ও পরে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। স্বার্থের জন্য তিনি জাতীয় পার্টিতে গিয়ে এমপি হন এবং আবারও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একইভাবে বুলবুলের বাবা এনামুল হক চৌধুরীও সুবিধা নিতে কতিপয় স্বার্থান্ধ নেতার হাত ধরে আওয়ামীলীগে যোগ দেয় এবং ইউনিয়নের সভাপতির পদ কুটকৌশলে আঁকড়ে ছিলেন। আওয়ামীলীগের সভাপতি হয়েও তিনি ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জাপা প্রার্থী শওকত চৌধুরীর পক্ষে ভোট করেন। এজন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তিনি বলেন, এলাকায় আজীবন বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামীলীগ করা দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতা থাকতে অন্যদলের বিতর্কিত কাউকে এনে নৌকার প্রার্থী করতে হবে কেন? কোন ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করতে এধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে? হঠকারী এমন তৎপরতা কোনভাবেই দল বা এলাকাবাসীর জন্য কল্যাণকর হবেনা। যারা এই অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত তারা অচিরেই ওই প্রার্থীসহ প্রত্যাখ্যাত হবেন। অনিয়ম দূর্নীতির কারনে এনামুল চৌধুরীইতো গতবার নির্বাচনে ভরাডুবি হচ্ছিল। সেখানে তার ছেলে তাও আবার অন্যদলের ভাড়াটে বুলবুলকে জনগণ কোনভাবেই গ্রহণ করবেনা।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রকিব সোহন বলেন, বুলবুলও বাবার মত সুবিধা পেতে বর্তমান উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের কতিপয় বিতর্কিত নেতাকে হাত করে নৌকার মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে তৎপর হয়েছে। অথচ তৃণমূলে তার বিন্দুমাত্র গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাছাড়া বুলবুল তার বাবার চেয়ারম্যানী আমলের অনিয়ম দূর্নীতির মূল হোতা। তার কারণেই শেষ জীবনে ত্রাণের চালচুরী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘর বরাদ্দের জন্য ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ে পত্রিকার আলোচিত শীরোনামে পরিণত হয়েছিল।

সোহন বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় এখনও ইউনিয়নের প্রায় ৪০ টি পরিবারের কাছে ঘর দেয়ার নামে, ১০ জনকে গ্রাম পুলিশে চাকুরী দেয়ার কথা বলে এবং প্রায় ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন সরকারী ভাতাভোগী করার আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব টাকা কয়েকজন দালালের মাধ্যমে নেয়ায় টাকাদাতারাসহ ওই দালালরাও চরম বিপাকে পড়েছে। তাদের মধ্যে আতিয়ার নামের একজন পাওনাদারদের চাপে পালিয়ে বেড়াচেছ। চাপ দিলে বুলবুল বলে চেয়ারম্যান হলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সবার পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বুলবুল কখনই আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলনা। সাংগঠনিক ভিত্তি না থাকলেও তাকে অহেতুক দলীয় প্রার্থী করার তৎপরতা চরম আত্মঘাতী এবং দলের সাংবিধানিক নিয়ম পরিপন্থী। তার বাবাও সংবিধানকে উপেক্ষা করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ কুক্ষিগত করে রেখেছিল। এমনকি কাউন্সিল ভন্ডুল করে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রেখে অবৈধ সুবিধা নিয়ে আখের গোছানোয় মত্ত ছিল।

ফলে স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে এবং তৃণমূলে দলীয় ভিত্তি মজবুতকরণ হোচট খেয়েছে। এতে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের যুগান্তকারী উন্নয়ন সুবিধা থেকে প্রকৃত ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছে এবং জনগনের মাঝে এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যা উপজেলা পরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিপক্ষে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

এ ব্যাপারে বজলুর রশীদ বুলবুলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। ২০ বছর আগে ছাত্রদল করেছি। কিন্তু ছাত্রজীবন শেষে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলামনা। আমার বাবা আমৃত্যু ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং ৫ বারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। বিগত দিনগুলোতে বাবার একান্ত সহযোগী হিসেবে দলীয় ও পরিষদের সকল কর্মকাণ্ড আমিই তদারকি করেছি।

আওয়ামীলীগের কোন সংগঠনের সাথে কাগজে কলমে সম্পৃক্ত না থাকলেও সকল কর্মসূচি পালন ও বাস্তবায়নের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেছি। দলীয় পদের আশা করিনা বলেই কখনো ইউনিয়নে দলের পারিবারিক কমিটি গড়ে তুলিনি। বরং বিরোধী মতের লোকজনও কমিটির সহ-সভাপতি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলো।

তিনি বলেন, দলের প্রতি আন্তরিক এবং উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই তারা বাবার মৃত্যুর পর আমাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেছেন। এখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নৌকার মনোনয়ন প্রাপ্তিতেও সহযোগীতা করছেন। দলের মনোনয়ন পেলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত। তাই বিরোধীরা অযথা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ইতোপূর্বে আমার

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000