বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বিশ্বনাথে দুর্গত মানুষের মধ্যে এলবিএইচএইচ পক্ষ হতে নগদ অর্থ বিতরণবিশ্বনাথে বন্যার্তদের ঈদ উপহার দিয়ে যাত্রা শুরু করল সৈয়দবাড়ি ফাউন্ডেশনবিশ্বনাথ উন্নয়ন সংস্থা ইউকের আর্থিক সহযোগিতা পেলেন ২ শতাধিক বন্যার্তনীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ৪৬২১ জনের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করলেন মেয়র রাফিকাবালাগঞ্জে কন্ঠ শিল্পী বন্যা তালুকদারের পক্ষ থেকে ত্রান সামগ্রী বিতরণবিশ্বনাথে বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন এসএম নুনু মিয়াবিশ্বনাথে বন্যার্তদের মাঝে বেইত আল-খাইর সোসাইটি’র খাদ্যসামগ্রী বিতরণবিশ্বনাথে আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসএম নুনু মিয়ার এান ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণসাংসদ আদেলের বরাদ্দে খাতামধুপুরের সুতারপাড়াবাসী পেলো হেরিং বোন রাস্তারাজনগরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সমন্বয় কমিটির সভা

সৈয়দপুরে ধান ক্ষেতে মাজরা পোকা, কারেন্ট পোকা ও পঁচানী রোগে কৃষক দিশেহারা: কৃষি বিভাগ নির্বিকার

মোঃজাকির হোসেন,নীলফামারী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১
  • ৭৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলতি আমন আবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। ধানের ক্ষেতে একের পর এক পোকা ও রোগের আক্রমনে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বিশেষ করে মাজরা ও কারেন্ট পোকায় আক্রান্ত হয়ে ধানগাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ফলন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের কোন প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে ¯’ানীয় কীটনাশক দোকানদারদের পরামর্শে ধান রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যা”েছন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ ফাইলেরিয়া হাসপাতাল সংলগ্ন কৃষি মাঠে একের পর এক জমিতে মাজরা পোকার আক্রমনে ফলন্ত ধানের শীষগুলো সাদাবর্ণ ধারণ করেছে এবং দানা নষ্ট হয়ে গেছে। জমির প্রায় এক তৃতীয়াংশ ধানগাছ এভাবে আক্রান্ত হয়েছে। যারা দ্রæত ব্যব¯’া নিয়েছে তাদের ফসল কিছুটা রক্ষা পেলেও অনেকের ক্ষেত প্রায় পুরোটাই নষ্ট হওয়ার পথে।

ধলাগাছ সর্দারপাড়ার কৃষক মোঃ সামসুল হক (৪৫), পিতা- মৃত মনির উদ্দিন এসময় তার জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতেছিলেন। তিনি জানান, আমি চলতি বছর প্রায় ৪ বিঘা (২ একর ৪০ শতক) জমিতে স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা ধান আবাদ করেছেন। চারা রোপনের পর থেকে নানা সমস্যায় ভুগছেন। প্রথম দিকে কারেন্ট পোকার আক্রমন ঘটে। পরে পাতা মরা ও পঁচানী রোগ দেখা দেয়। এখন শুরু হয়েছে মাজরা পোকার ব্যাপক আক্রমন। তিনি বলেন, এবার যে হারে মাজরা পোকা ধরেছে, আগে কখনও এমনটা দেখা যায়নি। এই পোকার কারণে ধান গাছে ফলন্ত শীষগুলোর দানা নষ্ট হয়ে সাদা হয়ে পড়েছে। দ্রæত এ রোগ এক গাছ থেকে আরেক গাছে ছড়িয়ে পড়ছে। বার বার ওষুধ দিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এত সমস্যায় থাকলেও আজবধি কৃষি বিভাগের কারও কোন সহযোগিতা পাইনি। এমনকি কামারপুকুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তার (বিএস) দেখাও পাইনি দীর্ঘ প্রায় ১ বছর যাবত। আগে বাসুদেব নামে যিনি বিএস ছিলেন তিনি মাঝে মাঝে পরিদর্শনে আসলেও বর্তমান বিএস আসাদুজ্জামান আশা কে পাওয়া যায়না। ফলে বাধ্য হয়ে ¯’ানী সার ও কীটনাশক দোকানদারদের পরামর্শ নিয়ে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছি।

একইভাবে অভিযোগ করেন সৈয়দপুর শহরের কয়ানিজপাড়ার গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, ফাইলেরিয়া হাসপাতালের পূর্বপার্শে কামারপুুকুর ইউনিয়নে ২ একর জমিতে স্বর্ণা-৫ ধান আবাদ করেছি। রোপনের পর থেকে পঁচানী, কারেন্ট পোকা ও এখন মাজরা পোকার আক্রমনে ফসল ধ্বংসের মুখে। ফলন নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি। কৃষি বিভাগের কারও কোন প্রকার সহায়তা বা পরামর্শ পাইনি। তারা কোন দিনই মাঠ পর্যায়ে আসেন না। ফলে কৃষকরা চরম সমস্যায় আছে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) আসাদুজ্জামান আশার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদে অব¯’ান করছি। কিছুক্ষণ আগেই ধলাগাছ এলাকা পরিদর্শণ করে এসেছি। কোথাও তো মাজরা পোকার আক্রমন চোখে পড়েনি। তাছাড়া কোন কৃষকও তো এ ব্যাপারে জানায়নি। জানালে অবশ্যই মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে আসতাম।

মাঠের পর মাঠ মাজরা পোকার আক্রমনের কারণে পথচারীসহ সকলের দৃষ্টিতে আসলেও আপনারা দেখতে পান না কেন? আপনারা কি আদতেই মাঠে যান, না কি না গিয়েই কৃষকের খবরের অপেক্ষায় থাকেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঠে গিয়ে তো আর পরে থাকতে পারবোনা। কৃষকদের মোবাইল নম্বর দেয়া আছে তাদের সমস্যা হলে জানালেই তো হয়। সাংবাদিকদের ডেকে আনতে পারে আর আমাকে জানাতে পারেনা?

এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিএস কে জানানো হয় যে, কোন কৃষকই সাংবাদিকদের জানায়নি। বরং সাংবাদিকরা পথে যেতেই ধানের ক্ষেতের বেহাল দশা দেখে কৃষকদের খোজ নিয়েছেন। যা আপনাদেরই (বিএস) দায়িত্ব ছিল। দায়িত্ব পালন না করে উল্টো কৃষকদের দোষারোপ করা কি ঠিক হ”েছ প্রশ্ন করলে তিনি নিরুত্তর হয়ে পড়েন।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানা বেগমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, কৃষকরা যদি আমাদের না জানায় তাহলে তো তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দেওয়া সম্ভব না। আমার কৃষি উপসহকারীরা মাঠেই অব¯’ান করছেন। এমনকি আমিও এ মুুহুর্তে মাঠে আছি। আমরা সর্বতভাবে চেষ্টা করছি কৃষকদের সমস্যা সমাধানের।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000