মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ফ্রান্সে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনবাকোডিসির পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বাড়ি নির্মান ও গবাদিপশু বিতরণদূর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন সৈয়দপুর পৌর মেয়েরপরারাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়বকশীগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনআন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বনাথে পিএফজির মানববন্ধনওসমানীনগরে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণওসমানীনগরের রাসেল সিলেট ল কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীতইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান -২০২২ জনসচেতনতামৃলক সভাদুর্গাপুজা উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সাইবার সেল ও মনিটরিং সেল গঠন

সৈয়দপুরে আত্মহত্যা প্ররোচনার দায়ে স্বামী গ্রেফতার

মোঃ জাকির হোসেন, নীলফামারি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নিজের জন্মদিনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ জ্যোতি। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে চার দিন আগে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এই মারোয়াড়ী নারী। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মারা যান তিনি।



ঘটনার আগে লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে স্বামী সুমিত কুমার আগারওয়ালা নিক্কিকে রবিবার রাত ১১ টায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া শহীদ ডা. বদিউজ্জামান সড়কের বাসিন্দা এবং যমুনা ব্রেড এন্ড কনফেকশনারীর মালিক। সৈয়দপুর বিশিষ্ট দানবীর ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদ তুলশীরাম আগারওয়ালার নাতি এবং প্রয়াত শিল্পপতি সুশীল কুমার আগারওয়ালার বড় ছেলে এই নিক্কি।

নিহত জ্যোতির বড় ভাই ভারতের শিলিগুড়ি শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রঞ্জিত কুমার জজরিয়া বলেন, ২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর আমার বোনের বিয়ে হয়েছে। তারপর থেকেই তার ওপর মানসিক নির্যাতন করছে নিক্কি ও তার মা উমা দেবী। নিক্কির ছোট ভাই অমিত কুমার আগারওয়ালার সাথে সৈয়দপুরের স্থানীয় ডা. অমৃতা কুমারী আগারওয়ালার বিয়ের সময় কৌশলে মিথ্যে কথা বলে জ্যোতির নিজস্ব গহনা ও সঞ্চিত টাকা হাতিয়ে নেয় পরিবারের লোকজন।

দীর্ঘ দিনেও ওই টাকা ও গহনা ফেরত না দেওয়া হয়নি। বরং ওই বিষয়ে কথা বললেই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। নিক্কি মাদকাসক্ত ও পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ায় এবং এর প্রতিবাদ করায় পারিবারিক অত্যাচারের মাত্রা দিনে দিনে আরও বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি স্বামী শ্বাশুড়ী দেবর জা মিলে নিয়মিত অমানবিক নির্যাতন অব্যাহত রাখায় জ্যোতি অতিষ্ঠ হয়ে প্রবলভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। বুধবার আবারও সবাই মিলে নির্যাতন করায় ক্ষোভে দুঃখে একটি সুইসাইড নোট লিখে বৃহস্পতিবার সকালে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

নিক্কি ও উমা দেবী বিষয়টি জানতে পারলেও গুরুত্ব না দিয়ে ডা. অমৃতা কে দিয়ে ঘরোয়াভাবে চিকিৎসা দেয়। রাতে অবস্থার অবনতি হলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাইক্রোবাসে প্রথমে সৈয়দপুর ডক্টরস ক্লিনিকে নেয়া হয়। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীকে ভর্তি না নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে চারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে নিজের জন্মদিনের দিন বিদায় নিয়েছে পৃথিবী থেকে।

একইরকম অভিযোগ করে জ্যোতির ভগ্নিপতি জয়পুরহাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কালী চরণ জানান, মূলতঃ পুরো পরিবার মিলেই মৃৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে জ্যোতিকে। সুইসাইড নোটেই এব্যাপারে স্পষ্টভাবে লিখে গেছে সে। মৃত্যুর জন্য নিক্কি, উমা দেবী, অমিত ও অমৃতা কে দায়ী করে বিচার চেয়েছে সে। তারা আসলেই অপরাধী বিধায় ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পর ইচ্ছে করেই যথাসময়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি।

জ্যোতি সুইসাইড নোটে আরও লিখেছে বিয়ের পর থেকে ২১ বছরে একদিনের জন্যও সুখের মুখ দেখতে দেয়নি শ্বাশুড়ী। ছেলের অপকর্মকে সায় দেয়াসহ উল্টাপাল্টা কথা বলে কান ভরান তিনি। সারা জীবন কেঁদেও গেলো। টাকা ও গয়না নিয়ে ফেরত না দিয়ে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করে চলেছে। দুই সন্তানকেও ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছে। কাজের লোক ও পাড়া প্রতিবেশীরাও সব জানে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) সারোয়ার আলমসহ নিহতের বাসায় রবিবার দুপুরে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। সবার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। এতে স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে তল্লাশি করে মৃতার নমুনা হাতের লেখা সংগ্রহ করা হয়। পরে রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুমিত কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেফতার করে সোমবার সকালে নীলফামারী আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সৈয়দপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, ইতোপূর্বেও অনেকবার সুমিত ও জ্যোতির পারিবারিক সমস্যার ব্যাপারে শালিশ বৈঠক করা হয়েছে। এতে স্বামীর পরকিয়া সম্পর্ক এবং শ্বাশুড়ীসহ মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ জানা গেছে। গয়না ও টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নাই। আত্মহত্যার ব্যাপারেও আমাকে আগে জানানো হয়নি। মৃত্যুর পর পুলিশের কাজে সহযোগীতা করতে বাসায় গিয়েও ওই পরিবারের কাউকে পাইনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000