শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বকশীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নবাগত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতবিনিময়সৈয়দপুরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল ইজিবাইক চালকের ছেলে নয়ননীলফামারীর সৈয়দপুর ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের শরীর তিন খন্ডদুমকিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রানীলফামারীর সৈয়দপুরে ৫ টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই, ২০ লাখ টাকার ক্ষতিওসমানীনগরে বাড়ির উঠান দিয়ে রাস্তা নিতে প্রতিবন্ধি পরিবারে হামলানীলফামারীর সৈয়দপুরে থানা ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিতছাত্রদল নেতা নয়ন হত্যার প্রতিবাদে সৈয়দপুরে বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশওসমানীনগরে কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণবালাগঞ্জে ফ্রান্স প্রবাসী কমিউনিটি নেতা সুমন এর পিতৃবিয়োগ

শারদীয় দূর্গাপূজায় আনসার ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন

সঞ্জয় মালাকার
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারে শারদীয় দূর্গাপূজায় ১০০৬টি পূজা মন্ডপে ৪৮২২ জন আনসার ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় করা হয়েছে ও জনবল কম ছিলো এরূপ অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার মূলক। বিজয়া দশমী শেষে বিভিন্ন মন্ডপের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও পূজা মন্ডপে দায়িত্ব পালনকারী আনসার ভিডিপি সদস্যদের সাথে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়,বাছাই কার্যক্রম যথাযথ ভাবেই করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেন কিংবা দূর্নীতি হয়নি। একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জণের লক্ষে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে বিভান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।



গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগের বিষয়ে গঠিত আনসার ভিডিপির তদন্তে কমিটির সদস্যরা জানান, প্রকাশিত দূর্নিতির সংবাদের সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং ন্যায় বিচার ও সুশাসনের স্বার্থে তদন্ত কাজে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা কামনা করেন। তবে ঐ সংবাদকর্মী অভিযোগ সংক্রান্ত উপযুক্ত তথ্য প্রমান দিতে ব্যর্থ হন। প্রকাশিত সংবাদটিতে নাম পরিচয় ও ঠিকানা বিহীন একাধিক ইউপি সদস্যর বরাত দিয়ে উল্লেখিত, ”আমার ইউনিয়নের প্রত্যেক আনসার সদস্যদের কাছে উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসের স্টাফরা ৫শ টাকা ঘুষ নিয়েছে এবং ৪ জনের স্থানে ২ জন দিয়ে দিয়ে ডিউটি করানো হয়েছে।” এবং- ”আমার ইউনিয়নে ৪ জনের স্থানে একজন দায়িত্ব পালন করেছেন”- বিষয়ে এ সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ”আমি আপনাকে ইউপি সদস্যদের নাম ঠিকানা দিতে পারবো না।” এটি সাংবাদিকতার বিধানের নেই বলেও তিনি পাশ কাটিয়ে যান।

একইভাবে, ইমরান নামে এক সদস্য আনসার ভিডিপি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ি টাকা না দিতে পারায় তাকে চাকুরি দেয়া হয়নি এই অভিযোগের বিষয়ে উক্ত সংবাদকর্মীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তার পরিচয় ও ঠিকানা দিতে ব্যর্থ হন। কোনো কোনো পূজা মন্ডপে ৪ জনের পরিবর্তে একজন দায়িত্ব পালন করেছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে তথ্য চাওয়া হলে তিনি পূজা মন্ডপের নাম দিতেও ব্যর্থ হন এবং পাশ কাটিয়ে যান।

মৌলভীবাজারের ৭টি উপজেলার মধ্যে অপেক্ষাকৃত বেশি আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়ন ছিলো কুলাউড়া, বড়লেখা, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও জুড়ি উপজেলায়। প্রকাশিত সংবাদে শুধুমাত্র ২টি উপজেলা সদর ও রাজনগরের অনিয়মের মিথ্যা তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা ছিলো উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে সরেজমিনে তদন্তে প্রতিয়মান হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজনগর কেন্দ্রিয় পূজা মন্ডপ দূর্গাবড়ির সাধারণ সম্পাদক সজল কান্তি দেব বলেন, ”আমার পূজা মন্ডপে আনসার ভিডিপি সদস্যদের হাজিরা সঠিক ছিলো।” রাজনগরের গয়নগর পূজা মন্ডপের সভাপতি বয়জন্ত ভট্টাচার্য বলেন, ”আমার মন্ডপে ৪ জন আনসার ভিডিপি সদস্য সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।” সৈয়দনগর দক্ষিণ চাকুরা পূজা মন্ডপের সভাপতি সুমন দেব বলেন, ”আমার পূজা মন্ডপে আমি সকল আনসার ভিডিপি সদস্যদের ৬দিন উপস্থিত পেয়েছি।”

উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিগেন্দ চন্দ দাশ বলেন, আমি উত্তররভাগ ইউনিয়নের সবকটি পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করছি কোথাও আনসার বিডিপির সদস্যদের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। সব জায়গায় দেখেছি আনসার বিডিপির সদস্যরা নিয়োজিত আছেন।

পূজা উদযাপন পরিষদ রজনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রীপদ বৈদ বলেন, আমি উপজেলার ১২৮ টি পূজা মন্ডপে গিয়েছি সবকটিতে আনসার ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি। কোথাও কোনো অভিযোগ পাইনি। আনসার ভিডিপির সদস্যরা অত্যান্ত দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে কাজ করে আমাদের পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করেছেন।

সামাজিক সংগঠন মেধা-সংস্কৃতি বিকাশ সমাজ কল্যান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আকলু মিয়া চৌধুরী বলেন, আমাদের সংস্থা থেকে প্রতিদিন আমরা কয়েকটা মন্ডপে পরিদর্শন করেছি । যেসব মন্ডপে গেছি সবগুলোতে আনসার সদস্যদের পেয়েছি।

এ বছর দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আনসার ভিডিপি মৌলভিবাজারের সক্রিয় কার্যক্রম ও অংশগ্রহন ইতিমধ্যেই সর্বমহলে ব্যপক প্রশংসিত হয়েছে বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা যায়। উল্লেখ্য মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে গত ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা আরাম্ভ হয় এবং ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সুষ্টুভাবে শেষ হয়। উক্ত আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও নির্ভিগ্ন করতে এ জেলার ১০০৬টি পূজা মন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি ৪৮২২ জন আনসার ভিডিপি সদস্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000