সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারী নেটওয়ার্কের সাথে সভা ও কমিটি গঠন বিশ্বনাথেমধ্যমবার ফুটবল টুর্নামেন্টের এক ম্যাচ দুই দিনে সম্পন্ন সিলেটের বিশ্বনাথেনিজের গলায় নিজে ছুরি চালিয়ে বিশ্বনাথের লামাকাজীতে যুবকের আত্মহত্যাসাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার জামিন বাড়লো আরো ৬ মাসসালমান শাহর ৫০ তম জন্ম বার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর –বি,এন,পি নেতা মরহুম গেদাই মিয়ার ৫ম মৃত্যু বার্ষিকীতে বালাগঞ্জ উপজেলা বি,এন,পির উদ্দ্যোগে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলকার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সিলেট জেলা আ’লীগেরনদীতে গোসল করতে নেমে কিশোর নিখোঁজ সৈয়দপুরে ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দলের চেষ্টা অব্যাহতমর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় গোলাপগন্জে ঘটনাস্হলেই দাদা নাতি নিহতইউএনও অফিসের সহকারি বিতর্কিত ফয়সল জগন্নাথপুর থেকে বদলি সর্বত্রই স্বস্থি

বড়লেখার ভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরছে স্বাস্থ্য বিধিমেনে শিক্ষার্থীরা

মোঃইবাদুর রহমান জাকির,বড়লেখা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রতিদিনের সকালের মত আজকের সকালটা একরকম ছিল না। এদিন সকাল ৬টা থেকে মা-বাবার হাঁক-ডাক। সন্তানকে তৈরী করে স্কুলে পাঠানোর তাগিদ। সন্তানের চোখে-মুখে ঘুম। সেই ঘুম-চোখেই প্রস্তুত হয়ে আজহারুল ইসলাম মাশরাফি নাস্তা খেয়ে স্কুলে রওনা দেয়। গন্তব্য পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ৩য় শ্রেনীর ছাত্র। রাস্তায় তার বন্ধু ইমনের সাথে দেখা। স্কুলে প্রবেশ করতেই সেই পুরোনো সব বন্ধু। ঘুম ছুটে চোখে ভর করে খুশির ঝিলিক। স্কুলের প্রবেশ পথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসরুমে গিয়ে বসা। তারপর শুরু পাঠদান।

৫৪৩ দিন পর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) স্কুল খোলার প্রথম দিনে বড়লেখায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে গমন ও ক্লাসরুমে বসার চিত্র ছিল এমনই। সকালের শিফটে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে প্রবেশ করেছে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গেল বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় প্রথম ধাপে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে আজ থেকে। শারীরিক উপস্থিতিতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগে থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। শ্রেণি কার্যক্রম প্রস্তুতি ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বরণ করতে সাজানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষ। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুইটি শ্রেণির পাঠদান অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী একটি রুটিনও প্রণয়ন করা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, রোববার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিষয়টি না জেনে অনেক অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও স্কুলে চলে আসতে দেখা গেছে।

স্কুল খোলার প্রথম দিন বড়লেখার বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের আগমন উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। অনেক স্কুলেই শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়, স্কুল গেইট সাজানো হয় বেলুন দিয়ে।

উপজেলার ইটাউরী মহিলা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘সকালের শিফট ১০টা থেকে শুরু। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করানো হয়েছে।’

উপজেলার রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ইকবাল আহমদ জানান, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করিয়েছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া, শরীরের তাপমাত্রা মাপা, শরীরে স্যানিটাইজ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিফট ভিত্তিক আলাদাভাবে পাঠদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো সন্তোষজনক।

এদিকে সকাল থেকেই স্কুলের সামনে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। সন্তানকে বাসা থেকে বের করে স্কুল অবধি পৌঁছানো পর্যন্ত অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা লক্ষ্য করা গেছে। করোনা মহামারিতে সন্তানকে চোখে চোখে রেখে আজই বাসার বাইরে অন্য কোথাও রেখে যাওয়া। ইমদাদুল ইসলাম ইমনের অভিভাবক (মা) শুয়ারা বেগম বড়লেখা মডেল মাদ্রাসায় ছেলেকে দিতে এসে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। উৎকণ্ঠা নিয়েই এ প্রতিবেদকে জানালেন, ‘এ সময়ে ছেলেকে মাদ্রাসায় দিতে এসে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। বাসার বাইরে বের হলেই নিরব একটা ভয় কাজ করে নিজের মধ্যে।’

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজ খোলার পর উচ্চ মাধ্যমিক ২০২১ ও ২০২২ সালের মাধ্যমিক এবং এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসিই) শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে। প্রথম থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন করে স-শরীরে ক্লাস করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে স্বাস্থ্য নির্দেশনার সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) পাঠিয়েছে। স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার পর নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

এই নির্দেশনায় প্রধান শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীদের সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকা এবং শ্রেণীকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া, কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকা অথবা কর্মীর করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে বা আইসোলেশনে থাকতে পারবে এবং তাদেরকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে না। নির্দেশনায় শিক্ষকদের অনুরোধ করা হয়েছে, প্রতিটি ক্লাসের শুরুতে একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য। কোনো ছাত্র যেন ক্লাসের মাঝখানে বের হয়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়। এসওপি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে— শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের অসুস্থতা অনুভব করলে তা যেনো শিঘ্রই অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানায়। কোনো জরুরি কারণ ছাড়া শ্রেণীকক্ষের বাইরে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেন তারা শিঘ্রই এই তথ্যটি প্রধান শিক্ষককে জানান। একইসঙ্গে, শিশুদের বাইরের খাবার খেতে নিরুৎসাহিত করার ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে এসওপিতে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গত বছরের ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায় এবং প্রায় দেড় লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000