বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ফেঞ্চুগঞ্জ উত্তর কুশিয়ারা আন্তর্জাতিক অনলাইন গ্রুপ ও সিলেট মিডিয়া কর্পোরেশনের উদ্দ্যোগে ৬ষ্ঠ ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনবিশ্বনাথের লামাকাজীতে দোয়ার মাধ্যমে ‘ঘোড়া’ প্রতিকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্ভোধনকুমিল্লার গোমতী চরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ ব্যবসায়ি গ্রেফতার সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানাসিলেটের বিশ্বনাথের লামাকাজীতে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক একাধিক প্রতিষ্টানকে জরিমানাপটুয়াখালীর দুমকিতে ৫০ তম স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্ধোধনআগামীকাল নতুন বেরী ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের ২য় গজল সন্ধ্যাঃ আসছেন বুলবুলসুনামগঞ্জের ছাতকের মল্লিকপুর লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির কমিটি গঠনসিলেটের বিশ্বনাথের লামাকাজীতে চেয়ারম্যান ধলা মিয়ার সমর্থনে সৎপুর গ্রামে উঠান বৈঠকবিশ্বনাথের লামাকাজীতে ‘বৈদ্যুতিক পাখা’ প্রতিকের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ের উদ্বোধনজামালপুরের বকশীগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে এসপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বেগুন চাষাবাদ পদ্ধতি

বিশেষ প্রতিবেদন:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১
  • ৩৭৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বেগুন চাষের সঠিক পদ্ধতি আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আর এতে করে বেগুনের ফলন নিয়ে চাষিরা হতাশ হন। বেগুনের অধিক ফলন পেতে হলেন সঠিক নিয়মে চাষাবাদ করা প্রয়োজন।

বেগুন চাষ পদ্ধতি:
চাষের মৌসুম: সাধারণত বেগুনের চারা মাঘ-ফাল্গুন মাসে গ্রীষ্মকালীন, বৈশাখ মাসে বর্ষাকালীন, ভাদ্র-আশ্বিন মাসে শীতকালীন ফসলের জন্য রোপণ করা হয়ে থাকে।

জাত:
আমাদের দেশের স্থানীয় জাতগুলো হলো: ইসলামপুরী, উত্তরা, লাফফা, নয়নকাজল, মাকড়া, রাখাইন বেগুন, ঈশ্বরদি ১, খটখটিয়া, সাহেব বেগুন, তাল বা তল্লা বেগুন, কেজি বেগুন ইত্যাদি জাত।

হাইব্রিড জাতগুলো হলোঃ চমক এফ১, বিটি বেগুন,বিজয়, পার্পল কিং, কাজলা (বারি বেগুন ৪), নয়নতারা (বারি বেগুন ৫), তারাপুরী (বারি বেগুন ২), শুকতারা, ডিম বেগুন, মুক্তকেশী ইত্যাদি জাত সমুহ।

চারা তৈরি: বেগুন চাষের জন্য প্রথমে বীজতলায় চারা করে তা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। বীজতলা এমন স্থানে তৈরী করতে হবে যেখানে বৃষ্টির পানি দাঁড়াবে না অর্থাৎ সুনিষ্কাশিত হতে হবে, সর্বদা আলো-বাতাস পায় অর্থাৎ ছায়ামুক্ত হতে হবে।

বীজতলা তৈরির জন্য মাটি গভীরভাবে (অন্তত ২০ সেন্টিমিটার) চাষ দিতে হবে। বীজতলায় মাটি হতে হবে উর্বর। উর্বরতা কম থাকলে জৈব সার ও সামান্য পরিমাণ ফসফেট জাতীয় সার ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি বর্গ মিটার বীজতলার জন্য ০.১০ ঘন মিটার পচা গোবর সার ও ৩০ গ্রাম টিএসপি সার ব্যবহার করা যেতে পারে। চাষের পর সম্পূর্ণ জমিকে কয়েকটি ছোট ছোট বীজতলাতে ভাগ করে নিতে হবে।

প্রতিটি বীজতলা দৈর্ঘ্যে ৩-৫ ঘন মিটার, প্রসে’ এক মিটার ও পাশ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রাখা উচিত। পাশাপাশি দুটো বীজতলার মধ্যে ৫০-৬০ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রাখা উচিত। এ ফাঁকা জায়গা থেকে মাটি নিয়ে বীজতলা উঁচু করে নিতে হবে। অল্প সংখ্যক চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা হিসেবে কাঠের বাক্স, প্লাস্টিকের ট্রে অথবা বড় টব ব্যবহার করা যেতে পারে।

জমি তৈরি ও চারা রোপণ: সাধারণত মাঠের জমি তৈরির জন্য ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। ৩৫-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণের উপযোগী হয়। এ সময় চারাতে ৫-৬টি পাতা গজায় এবং চারা প্রায় ১৫ সেমি. লম্বা হয়। বেগুনের চারার বয়স একটু বেশী হলেও লাগানো যেতে পারে।

প্রয়োজনে দু’মাস পর্যন্ত চারা বীজতলার রেখে দেওয়া যায়। চারা তোলার সময় যাতে শিকড় নষ্ট না হয সেজন্য চারা তোলার ১-২ ঘন্টা আগে বীজতলায় পানি দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। চারা রোপণ দূরত্ব জাত, মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন মৌসুমের উপর নির্ভর করে।

সাধারণত বড় আকারের বেগুনের জাতের ক্ষেত্রে ৯০ সেমি. দূরে সারি করে সারিতে ৬০ সেমি. ব্যবধানে চারা লাগানো যেতে পারে এবং ক্ষুদ্রাকার জাতের ক্ষেত্রে ৭৫ সেমি. সারি করে সারিতে ৫০ সেমি. ব্যবধানে চারা লাগানো যেতে পারে। জমিতে লাগানোর পর পরই যাতে চারা শুকিয়ে না যায় সে জন্য সম্ভব হলে বিকালের দিকে চারা লাগানো উচিত।

সার প্রয়োগ: বেগুন চাষে সার প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেগুন চাষে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টর জমিতে ১৪৫ থেকে ১৫৫ কেজি টিএসপি, ৩৭০ থেকে ৩৮০ কেজি ইউরিয়া, ২৪০ থেকে ২৬০ কেজি এমপি এবং গোবর ৮ থেকে ১২ টন হারে প্রয়োগ করতে হবে।

বেগুন চাষের জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর প্রয়োগ করতে হয় আর বাকি অর্ধেক গোবর সম্পূর্ণ টিএসপি এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও এমপি সার পিট তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হয়। অবশিষ্ট ইউরিয়া ও এমপি সার তিন কিস্তিতে রোপণের ২১ থেকে ৩৫ ও ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।

বেগুন সংগ্রহ: খাওয়ার উপযোগী বেগুন ক্ষেত থেকে তোলার সময় সাবধানে সংগ্রহ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে গাছের গায়ে যেন আঘাত না লাগে বা ক্ষত সৃষ্টি না হয়। গাছ থেকে তোলা বেগুন কাঁচা পাতা অথবা খড়ের উপর রাখতে হবে যেন বেগুনে আঘাত না লাগে; এটা অতি প্রয়োজনীয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000