মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দক্ষিণঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পুরন লেবুখালীর পায়রা সেতুর মাধ্যমেচোরাই মোটর সাইকেল সহ চোর গ্রেফতার সৈয়দপুরেএম ইলিয়াছ আলীর সন্ধান কামনায় বিশ্বনাথে দোয়া মাহফিলবিশ্বনাথে এমএ খান সেতুর টুল আদায় সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সভাতরুণ সমাজকর্মী লিমনের উচ্ছ শিক্ষায় যুক্তরাজ্য গমন উপলক্ষে বিদায়ী সংবর্ধনাবিশ্বনাথে নানান আয়োজনে শেখ রাসেল দিবস ২০২১ পালনবিশ্বনাথের ছরকুম আলী দয়াল হত্যা- পুনঃ তদন্তে পিবিআইশেখ রাসেলের জন্ম দিবস পালিত বকশীগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগেনারী উন্নয়ন ফোরাম সৈয়দপুরের উদ্যোগে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল বিতরণডাক্তার ও সেবা নেই – রোগী আছে, হাসপাতাল আছে

বিশ্বনাথের খাজাঞ্চীতে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, সেবা নেই

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ১৬১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফারুক আহমদঃ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার কয়েক শতাধিক পরিবার। দীর্ঘদিন যাবত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন গর্ভবতী মায়েরা, নবজাতক, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, পুষ্টিবিষয়ক সহ প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা। জানা গেছে ক্লিনিক ইনচার্জ রুমানা আক্তারের খামখেয়ালীপনা, দূর্নীতি, অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতার কারনে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।

খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কেন্দ্রীক কুমারপাড়ায় অবস্থিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীদের অনিয়ম ও দূর্ণীতির কারণে এলাকার চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে অনেকের অভিযোগ। কারণ: এখানের দায়িত্বরত সেবাদাতাগণ অদৃশ্য কারণে অনুপস্থিত থাকেন হরহামেশা। সপ্তাহে দু-একদিন এসে দরজা খুলে বড়জোর ঘন্টা দুয়েক পর দরজায় তালা দিয়ে ফিরে যান। যেসকল ঔষধ রোগীদের দেওয়ার কথা তা তারা পান না। কমিউনিটি ক্লিনিক কেন্দ্রিক যে সকল সেবা পাওয়ার কথা তার অনেকটাই দিতে অপারগ কর্মকর্তাগন। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তার দপ্তরে রোগী রেফার করার অভিযোগ ও তাদের বিরুদ্ধে।

খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কুমারপাড়া, প্রতাবপুর, নোয়ারাই, মদনপুর, রায়পুর, চন্দ্রগ্রাম, হামদরচক, ভোলাগঞ্জ, কাবিলপুর, কুরিখলা, গনাইঘর তেঘরী সহ ইউনিয়নের ১-২-৩ নং ওয়ার্ডের নারী পুরুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই ক্লিনিকে সেবা বঞ্চিত হয়ে এলাকাবাসী হতাশায় নিমজ্জিত।

রোববার ১১ জুলাই সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ক্লিনিকের দরজা বন্ধ। এলাকার রাখাল পুরুষেরা দরজায় বসে গল্প গোজব করে দিন কাটাচ্ছেন। ক্লিনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে তার বিস্তারিত।

ক্লিনিকের পাশ্ববর্তী কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজন আহমদ বলেন, এখানে যারা ডাক্তার আছেন তারা সপ্তাহে দু-তিনদিন আসেন। সকাল ১১টা কিংবা সাড়ে ১১টায় কেউ আসেন আবার চলেও যান জোহরের পরপর। রোগীদের ঔষধ দিতে চান না। যা দেন তা যৎসামান্য। অনেকের কাছ থেকে টাকাও নেন।

একি মন্তব্য করেন আরেক গ্রামবাসী ফারুক মিয়া।

এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে চন্দ্রগ্রামের একজন মহিলা চিকিৎসা প্রার্থী বলেন, আমি আজ তিনদিন এখানে এসে কোন ডাক্তার পাইনি। যতবার এসেছি ততবারই দরজা বন্ধ পেয়েছি। এরকম ক্লিনিক এখানে থাকার চেয়ে না থাকাই ভাল।

অভিযোগের বিষয়ে কুমারপাড়া ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক রুমানা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমি নিয়মিত ডিউটি পালন করছি এবং সেবা প্রদান করে আসছি। কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এধরণের কিছু হলেতো ক্লিনিক পরিচালনা কমিটি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্তা নেবে।

এব্যাপারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা ঊষারানী তালুকদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান এখানে আমি মাসে দু-একবার যাই। এখানে গেলে অনেক সময় দরজা খোলার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। এছাড়া এখানে কর্মরত চিকিৎসক রোগী আমার কাছে রেফার করে দেন যেটা অনেক রোগী আমার কাছে এসে বলে যে তাদের কুমারপাড়া থেকে এখানে পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াসউদ্দিন এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, এরকম অভিযোগ অনেকেই করছেন। আমরা তাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করে ও কোন ফল হচ্ছে না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000