বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বিশ্বনাথে দুর্গত মানুষের মধ্যে এলবিএইচএইচ পক্ষ হতে নগদ অর্থ বিতরণবিশ্বনাথে বন্যার্তদের ঈদ উপহার দিয়ে যাত্রা শুরু করল সৈয়দবাড়ি ফাউন্ডেশনবিশ্বনাথ উন্নয়ন সংস্থা ইউকের আর্থিক সহযোগিতা পেলেন ২ শতাধিক বন্যার্তনীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ৪৬২১ জনের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করলেন মেয়র রাফিকাবালাগঞ্জে কন্ঠ শিল্পী বন্যা তালুকদারের পক্ষ থেকে ত্রান সামগ্রী বিতরণবিশ্বনাথে বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন এসএম নুনু মিয়াবিশ্বনাথে বন্যার্তদের মাঝে বেইত আল-খাইর সোসাইটি’র খাদ্যসামগ্রী বিতরণবিশ্বনাথে আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসএম নুনু মিয়ার এান ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণসাংসদ আদেলের বরাদ্দে খাতামধুপুরের সুতারপাড়াবাসী পেলো হেরিং বোন রাস্তারাজনগরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সমন্বয় কমিটির সভা

নীলফামারীতে ব্যাপক কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহে ইরি-বোরো ধানের বীজতলায় পচন

মোঃজাকির হোসেন,নীলফামারী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের চারায় পচন দেখা দিয়েছে। নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে পুরো বীজতলা। এতে আবাদ শুরুর প্রাক্কালেই কৃষকরা ধান চাষ নিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছে।



ছাই দিয়ে পচন রোধের চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে। লাগাতার কয়েকদিন ধরে ব্যাপক কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহের ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (৯ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিন গেলে দেখা যায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান চাষের জন্য তৈরী বীজতলার কিছু কিছু চারায় পচন ধরেছে। বেশীরভাগ বেচন (চারা) ক্ষেত হলুদ ও লাল বর্ণের হয়ে পরেছে। এখনও যেগুলো সবুজ রয়েছে সেগুলোর গোড়াতেও কালো রং ধারণ করেছে।

আরও কয়েকদিন আবহাওয়ার একই অবস্থা বিরাজ করলে ওই চারাগুলোও লাল বা হলুদ হয়ে পুরোপুরিভাবে পচনের মুখে পতিত হবে বলে মনে করছে কৃষকরা। ফলে ইরি-বোরো ধান চাষ নিয়ে শুরুতেই হোচট খাওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন তারা। এতে যথাসময়ে চারা রোপন সম্ভব না হলে আগাম ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের উত্তর অসুরখাই গ্রামের ডাক্তারপাড়ার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে কৃষক শরীফুল ইসলাম (৩৫) জানান, তার ২বিঘা জমির ২৯ জাতের ধানের বিচনে পচন ধরেছে। অধিকাংশই লালচে হয়ে গেছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা পড়ায় শিশির জমে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমন মৌসুমে অতিবৃষ্টির ফলে ধানে পচন ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে আশানুরূপ ফলন না হওয়ার ক্ষতি পোষানোর জন্য আগাম ইরি-বোরো আবাদ করতে বীজতলা তৈরী করেছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় অল্পদিনেই চারা বেশ হৃষ্টপুষ্ট ও সতেজ হয়ে উঠেছিল। আর কয়েকদিন পরেই জমি তৈরী হলেই রোপণের বীজতলা থেকে চারা তোলা হতো। অথচ এরই মাঝে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে শৈত্য প্রবাহ শুরু হওয়ায় ব্যাপক কুয়াশার কবলে বিপাকে পড়েছি।

একইভাবে হতাশা ব্যক্ত করেন ওই এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে কৃষক গৃহস্থ ইলিয়াস আলী ( ৪০)। তিনি বলেন, ১২০শতক জমির বিচন পুরোটাই নষ্ট হওয়ার পথে। ঘন কুুুুয়াশা পড়া শুরু হওয়ার পর পরই প্রতিদিন খুব সকালে বীজতলায় গিয়ে চারা পাতায় জমে থাকা অতিরিক্ত শিশির ঝরাতে লাঠি চালিয়ে দিয়ে পরে ছাই ছিটাচ্ছি। কিন্তু দুপুুর নাগাদ রোদের দেখা না মেলায় ভিজা ছাই না শুকানোর ফলে গোড়ায় কালো হয়ে যায়।

এতে চারাগুলো হলুদ ও লাল হয়ে ক্রমেই পচনের দিকে যাচ্ছে। কিছুু কিছুতো পচেই গেছে। ফলে চরম বিপাকে পড়ে আশঙ্কায় আছি। এভাবে আরও কয়েকদিন আবহাওয়া বিরুপ থাকলে সম্পূর্ণ বীজতলাই পঁচে যাবে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুুুখে পড়বো এবং সময়মত আবাদ শুরু করা নিয়েও সমস্যায় পড়তে হবে। চারার সংকট সৃষ্টি হলে যেমন রোপন বিলম্বিত হবে তেমনি খরচও বেড়ে যাবে।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহিনা বেগম জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারনে কৃষকরা বীজতলা নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। তবে উপসহকারী কৃষি অফিসাররা নিজ নিজ এলাকায় কৃষকদের কুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনে মাঠে গিয়ে প্রাকটিক্যালী সঠিক পদ্ধতি প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দুই একদিনের মধ্যেই শৈত্য প্রভাহ কেটে যাবে এবং আবারও সূর্যালোক ও তাপ পেয়ে হলুদ ও লাল হয়ে যাওয়া চারায় প্রয়োজনীয় সেচ দিলে তা পূনরায় সবুজ ও সতেজ হয়ে রোপন উপযোগী হয়ে উঠবে। আর পচে যাওয়ার ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প চারার সংস্থান করে দিবে কৃষি অফিস। তাই চারা সংকটে আবাদ বাধাগ্রস্ত হওয়া নিয়ে আশঙ্কিত না হতে তিনি কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000