শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
রাজনগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সিএইচসিপিকে হত্যার হুমকির অভিযোগসৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাফজয়ী তিন ফুটবলারকে সংবর্ধনাবকশীগঞ্জে ১৩ টি পূজা মন্ডপে উপজেলা চেয়ারম্যানের আর্থিক অনুদান বিতরণনবীগঞ্জে হামিদুর রহমান হিলালের দ্বিতীয় বইয়ের মোড়ক উন্মোচনপটুয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এর জন্মদিন পালিতদুমকিতে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক সমন্বয় সভারাজনগরের জোড়া খুনের ৫আসামী গ্রেফতারবকশীগঞ্জে বিনামূল্যে সার ও মাসকালাই বীজ বিতরণরাজনগরের সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক আব্দুল হাকিম রাজসৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে আল্ট্রা সনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

ডাক্তার ও সেবা নেই – রোগী আছে, হাসপাতাল আছে

এস.পি.সেবু, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১
  • ২৯৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

গরিব অসহায়দের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেই ভরসাস্থলেও সঠিক সেবা নেই অসহায় রোগীদের। সেবার পরিবর্তে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে শিশু-কিশোর, মহিলা ও বয়োবৃদ্ধ রোগীদের।



বর্তমানে ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশি রোগে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই চিকিৎসার জন্য অসহায় এসব রোগী চলে যায় ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু সেখানে ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলে ডাক্তারের। সেখানে গিয়ে চিকিৎসার পরিবর্তে হতে হচ্ছে হয়রানি। এসব ভুক্তভোগী রোগীকে জরুরি বিভাগ থেকে ভর্তি দিয়েই কর্তব্যরত চিকিৎসকদের যেন দায় শেষ হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমন অভিযোগ নিত্যদিনের। রোগীদের সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে রাজার হালে এ হাসপাতালে চাকরি করছেন কর্মকর্তারা।

গত ২০১৮ সালে সরকার মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ৩১ শয্যার এ হাসপাতালকে প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয় করে ৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ করে। কিন্তু সেখানে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় মানুষ। এ হাসপাতালে ডাক্তার আছে, রোগীও আছে- নেই শুধু চিকিৎসাসেবা।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী ৮ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি।

উপজেলার আমতৈল গ্রামের আম্বর আলীর স্ত্রী সুমনা বেগম, মকদ্দুছ আলীর স্ত্রী খায়রুন নেছা, ধলিপাড়া গ্রামের রিমা বেগমসহ ৩-৪ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩ থেকে ৪ দিন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওয়ার্ডে কোনো ডাক্তারের দেখা মিলেনি। ওয়ার্ডে নামমাত্র একজন নার্স আছেন। ইনজেকশন দিতে হলে রোগী নিয়ে ওই নার্সের কাছে যেতে হয় রোগীর সঙ্গে থাকা লোকজনকে। তাছাড়া ডাক্তার দেখাতে হলে দুইতলা থেকে শিশুদের কোলে করে নিয়ে নিচতলায় যেতে হয়। তাও ভাগ্য ভালো হলে ডাক্তারের দেখা মিলে। কারণ ওই কমপ্লেক্সের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডাক্তার প্রাইভেট চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। 

নিদিষ্ট ডিউটি সময়ে এই প্রতিবেদক সরাসরি হাসপাতালে অবস্থান করলে

কোন কর্তব্যরত সরকারী ডাক্তারের দেখা পাননি। পুরাতন রোগী পরিচয়ে উক্ত হাসপাতালের আবাসিক এক ডাক্তারকে মুটোফোনে নক করলে, তিনি বলেন বিশ্বনাথের একটি ডায়াগনস্টিক প্রাইভেট চেম্বারে তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে।

এভাবেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাষকষ্টের রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে রোগীরা ভিড় করে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন।

এমন অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রথমে রেগে যান। এরপর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইয়াছিন আরাফাতের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। বিষয়টি তার কাছ থেকে জানার পর তাকে বলেন, এমন অভিযোগ যেন আর শুনতে না হয়। প্রতিদিন যেন ওয়ার্ডে একজন ডাক্তার যান।

এছাড়া উক্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত পচা ভাসি খাদ্য,নাস্তা সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000