বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বিশ্বনাথে দুর্গত মানুষের মধ্যে এলবিএইচএইচ পক্ষ হতে নগদ অর্থ বিতরণবিশ্বনাথে বন্যার্তদের ঈদ উপহার দিয়ে যাত্রা শুরু করল সৈয়দবাড়ি ফাউন্ডেশনবিশ্বনাথ উন্নয়ন সংস্থা ইউকের আর্থিক সহযোগিতা পেলেন ২ শতাধিক বন্যার্তনীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ৪৬২১ জনের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করলেন মেয়র রাফিকাবালাগঞ্জে কন্ঠ শিল্পী বন্যা তালুকদারের পক্ষ থেকে ত্রান সামগ্রী বিতরণবিশ্বনাথে বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন এসএম নুনু মিয়াবিশ্বনাথে বন্যার্তদের মাঝে বেইত আল-খাইর সোসাইটি’র খাদ্যসামগ্রী বিতরণবিশ্বনাথে আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসএম নুনু মিয়ার এান ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণসাংসদ আদেলের বরাদ্দে খাতামধুপুরের সুতারপাড়াবাসী পেলো হেরিং বোন রাস্তারাজনগরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সমন্বয় কমিটির সভা

ছাতক রেলওয়েতে চলছে অনিয়ম-দুর্নীতির হরিলুট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ-লক্ষ টাকা

ছাতক প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের ছাতক রেলওয়ে বিভাগে আবারও অনিয়ম, দুর্নীতির জট বেধেঁছে।ছাতক রেলওয়েতে দুর্নীতি-অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।এখানে সরকারি সম্পদের লুটপাট হচ্ছে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।



বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোন ছাতকের অধিনে রয়েছে রেলওয়ের ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ,ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী,কংক্রিট স্লীপার প্ল্যান্ট,রেলওয়ে ষ্টেশন,রেষ্ট হাউজ,কয়েকটি মাল গুদাম,রেলওয়ে হাসপাতাল, শতাধিক বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। শহর এবং কোয়ারী এলাকায় ৩ শতাধিক একর মূল্যবান ভূমিও রয়েছে রেল বিভাগের।বাংলাদেশ রেলওয়ের এসব সম্পদকে পুঁজি করে ছাতকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যবসা-বানিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের লুট-পাঠে জড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তোলেছেন।

রেলওয়ের ভুমি,পুকুর,বাসা ভাড়া দিয়ে এখানে লক্ষ -লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কর্মকর্তা -কর্মচারীরা। দুর্নীতির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কর্মকর্তারা একাধিকবার হাতা-হাতির ঘটনায় জড়িয়েছেন বলে ও অভিযোগ রয়েছে । টিএল আর নিয়োগের ক্ষেত্রে ও এখানে চরম দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। সাময়িক কাজের জন্য বর্তমানে অস্থায়ী শ্রমিক (টিএল আর) কাগজে-পত্রে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১২ জন। ১২ জনের বেতন-ভাতা মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে উত্তোলন করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। কিন্তু কাজে আছে ৭ জন শ্রমিক। এতে করে ৫ জনের বেতন-ভাতার মাসে ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এছাড়াও নিয়োগপ্রাপ্ত ৭ জনকে প্রতি মাসে দেয়া হচ্ছে ৮ হাজার ৫ শ টাকা করে। এখানে ৭ জনের বেতন-ভাতার মাসে ৪৫ হাজার ৫ শ টাকা নিয়ে যাচ্ছে ভারপ্রাপ্ত এস এ ই (কার্য/বি আর) আবুল কালাম আজাদের গঠিত কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট।

ভোলাগঞ্জ ও রজ্জুপথ এলাকা ছাড়া ছাতকে রেলওয়ের বাসা রয়েছে ১০০ টি। এর মধ্যে ৪৭ টি বাসা কর্মকর্তা -কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ।এসবের মধ্যে ১৯টি বাসার লোকজন এখানে কর্মরত নেই। অন্যত্র বদলী হয়ে গেলেও তাদের বাসা বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে গেছেন। অনেকেই বাসাগুলো অবৈধ ব্যবহার করছেন। আবুল কালাম আজাদ নিজেও একটি স্পেশাল জেড টাইপের বাসা দখলে নিয়ে বসবাস করছেন। বাসাটি তিনি নিজের নামে বরাদ্দ নেন নি। রেলওয়ের ২৫ টি বাসায় অবৈধ দখলদাররা বসবাস করেন। তবে তারা সরকারি গ্যাস,বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করেই আছেন। তারা বাসার ভাড়া ও দেন এক কর্মচারির নিকট ।

রেলওয়ের বাসায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের একটি তালিকা উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছিল ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর।পরে এইসব বাসার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন সে সময়ের ভারপ্রাপ্ত উর্ধতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (বি- আর /কার্য) । বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত এস এ ই (কার্য/বি আর) আবুল কালাম আজাদ ও এস এস এ ই (কার্য, অ/দা) জুয়েল হোসাইন বাসাগুলোতে গ্যাস,পানি, বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে লক্ষাধিক টাকা ভাড়া নিচ্ছেন। গ্যাস,পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ও তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি বাসা পরিত্যক্ত দেখানো হলেও ওইসব বাসায় ও লোকজনের বসবাস রয়েছে।কমভাড়া দিয়ে এ বাসাগুলোতে গরীব শ্রেণীর লোকজন বসবাস করছে। খালাসি তাজুল ইসলামের মাধ্যমে বাসার ভাড়া আদায় করা হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানিয়েছে। রেল বিভাগের ভোলাগঞ্জ কোয়ারির পাথর বিক্রির অভিযোগে রেলওয়ের ওই সময়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সিলেটের একটি আদালতে ২০১৯ সালে একটি মামলা হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত করছে দুর্নিতি দমন কমিশন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। এরপরও কোয়ারীতে নিয়মিত পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করে যাচ্ছে বর্তমান দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। সিলেট-ছাতক রেল লাইনে ৪টি ষ্টেশনই পরিত্যাক্ত। সরাসরি ছাতকের কোন ষ্টেশনে মাষ্টার বসেন নি। সিলেট বসেই আগে কর্মচারি দিয়ে চালাতেন ছাতক ষ্টেশন। দীর্ঘদিন দিন ধরে এ লাইনে রেল যোগাযোগ ও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন কর্মকর্তা সদোত্তর দিতে পারেন নি। ঘরে বসে বেতন -ভাতা নিচ্ছেন তারা। আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এতদঞ্চলের মানুষদের। অবহেলা ও দূর্নিতির কারণে রেলওয়ের ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথটি আজ অস্থিত্ব হারিয়েছে। চুরি হয়ে যাচ্ছে সরকারি কোটি টাকা মুল্যের মালামাল। ছাতক রেলওয়ে বিভাগের কংক্রিট স্লীপার প্ল্যাান্টে (সিএসপি) সরকারি টাকা আত্মসাত ও ভু-সম্পদ ভাড়ার হরিলুট চলছে। মাঝে- মধ্যে কারখানা টি চালু হয় আর ২/৪ দিন চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে এখানে কর্মরত ৪০ জন শ্রমিককে এর মাশুল দিতে হয়। এখানের সকল দুর্নীতির সাথে জড়িত ফোরম্যান (ইলেক) মাহবুবুল আলম মাসের পর মাস থাকেন ঢাকায়। মাঝে-মধ্যে এসে রেস্ট হাউসে থাকেন তিনি। প্রায় বিনা ডিউটিতেই বেতন -ভাতা পাচ্ছেন এ কর্মকর্তা । এ দিকে রেলওয়ে হাসপাতালটির অবস্থা কিছু দিন আগেও ভালো ছিল। সম্প্রতি এ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, ওষুধপত্র, মালামাল এমনকি দরজা-জানালা ও চুরি হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে থানায় কোন জিডিও হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেনসহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকার আরো একাধিক বাসিন্দারা জানান, রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রতি মাসে সরকারি বাসা ভাড়া, জমি ভাড়া,পুকুর ভাড়াও টিএলআর’র নামে মাসে লক্ষ-লক্ষ টাকা কামাই করেন। রেললাইন, স্টেশনসহ গুদাম, হাসপাতালে রাখা মালামাল কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই চুরি করে বিক্রি করে দেয়। ইতিপূর্বে রেলওয়ের একাধিক গুদাম ও তেলের ট্রাংকিতে বার-বার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গুদাম চুরির সময়ে চোরদের হাতে এক নৈশপ্রহরীর ও মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে (এস এস এ ই) জুয়েল হোসাইনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি সাথে -সাথে ফোন কেটে দেন। ফোরম্যান (ইলেক) মাহবুবুল আলম তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন পরে কথা বলবেন। ছাতক রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত এস এ ই আবুল কালাম আজাদ রেলওয়ের বাসায় অবৈধ লোকজনের বসবাস রয়েছে স্বীকার করে এক সাংবাদিককে বলেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000