সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
এনটিভির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খাবার বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানবিশ্বনাথে বন্যার্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার এান ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন নুনু মিয়ারাজনগরে কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধনবিশ্বনাথে থানা পুলিশের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণছাতকে ইমাম মোয়াজ্জিন গণকে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিলেন সাহেলবিশ্বনাথে ‘বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের’ নগদ অর্থ বিতরণজামালপুরের বকশীগঞ্জে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনবালাগঞ্জে সালমান আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণবিশ্বনাথে এক শিক্ষককে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ায় থানায় সাধারণ ডায়েরীউপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান বকশীগঞ্জের আলহাজ গাজী আমানুজ্জামান মডার্ন কলেজ

কুমিল্লার মুরাদনগরে এতিমখানার টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০২২
  • ৮০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২নং আকুবপুর ইউনিয়নের (৬নং ওয়ার্ড) বলীঘর দায়েমিয়া মাহবুবিয়া এতিমখানা কমপ্লেক্স কাগজে-কলমে ২৪ জন এতিম দেখালেও বাস্তবে তা নেই। গ্রামের মাদ্রসা ছাত্রদের বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া এতিম বানিয়ে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এতিমখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কমিটি।



অনুসন্ধানে ,কুমিল্লাতে বেসরকারি এতিমখানার নামে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি বরাদ্দের টাকা অবাদে লুটপাট হচ্ছে তা উঠে আসে। মাদ্রাসা ভিত্তিক এসব এতিমখানায় কাগজে কলমে এতিম থাকলেও বাস্তবের সাথে এর মিল নেই। অধিকাংশ এতিমখানায় সাইনবোর্ড থাকলেও এতিমদের জন্য আলাদা ঘর নেই

আবার বসবাসের অযোগ্য ঘরের সামনে নাম সর্বস্ব সাইনবোর্ড থাকলেও এতিম নেই । অনেক মাদ্রাসার লিল্লাহ বোডিং এতিমখানার নামে হাফেজি পরা ছাত্রদের এতিম বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ রকম অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বলীঘর দায়েমিয়া হাফিজিয়া এতিমখানা কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। সমাজসেবা অধিদপ্তরে যাহার রেজিস্ট্রেশন নং ১৯৮৩/২০১২।

মাদ্রাসার বিষয়ে জানতে চাইলে বলীঘর গ্রামের সাবেক মেম্বার সিদ্দিকুর রহমান সরকার বলেন,অত্র মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ সরকার ও মুহতামিম মাওলানা আবু ইউসুফের যোগসাজশে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তাদের মনগড়া মত কমিটি গঠন করে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছে ।

তিনি আরো বলেন, ক্যাপিটেশন গ্রান্ডের ব্যাপারে অনেক দুর্নীতি রয়েছে, এলাকাবাসী যেখানে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জানে মাদ্রাসা নিজস্ব জায়গায় পরিচালিত হয়ে আসছে ,সেখানে মাদ্রাসার নামে কোন জায়গা নেই, এটা মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ সরকার এবং মুহতামিম মাওলানা আবু ইউসুফ এলাকাবাসীকে বলে বেড়াচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর তৎকালীন সময়ে কিভাবে ক্যাপিটেশন অনুমোদন দিয়েছিলেন। শুরু থেকে এ পর্যন্ত বলীঘর দায়েমিয়া মাহবুবিয়া এতিমখানা কমপ্লেক্সের নামে সব ভাওতা বানিজ্য চলছে। সরকারের এদিকে কড়া নজর দেয়া উচিত। ক্যাপিটেশনের এ টাকা কোথায় যায়,কিভাবে খরচ হচ্ছে,কারা লুটপাট করছে তা তদন্ত করে সরকারি সব বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়া উচিত।

মাদ্রাসার নিবন্ধনকরন ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ সরকার প্রতিবেদককে বলেন, ২০১২সালে মাদ্রাসা রেজিস্ট্রেশন করার জন্য বিলের মধ্যে ৩০ শতাংশ জমির দলিল দেখিয়ে, সমাজকল্যাণ অফিসে আমার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ক্যাপিটেশন এর কাজটি সম্পন্ন করি। এখনোও পর্যন্ত সেই জমিতে কোন ধরনের স্থাপনা তৈরি করিনি। তবে বলীঘর দায়েমিয়া মাহবুবিয়া এতিমখানা কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চলমান অবস্থায় রয়েছে।

ক্যাপিটেশন বিষয়ে জানতে চাইলে এ মাদ্রাসার মুহতামিম আবু ইউসুফ বলেন, ক্যাপিটেশন গ্রান্ডের অনুমোদনের জন্য আমরা বিলে জমিন দেখিয়েছিলাম, তৎকালীন সমাজসেবা অফিসার আমাকে (মাওলানা আবু ইউসুফ) প্রশ্ন করেছিলেন স্থাপনা ছাড়া কিভাবে আপনারা অনুমোদন পেয়েছিলেন । তখন মাওলানা আবু ইউসুফ বলেন আমরা এ বিষয়টা ম্যানেজ করে নিয়েছিলাম। মাদ্রাসার এতিম সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে মুহতামিম মাওলানা আবু ইউসুফ বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় ইতিম নাই বললেই চলে। এতিমের অভিভাবকের মৃত সার্টিফিকেট ছাড়া কিভাবে অনুমোদন নিয়েছিলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন এ বিষয়গুলো আমরা সিস্টেম করে নিয়েছিলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বলীঘর দায়েমিয়া মাহবুবিয়া এতিমখানা কমপ্লেক্স বলীঘর গ্রামের বাজারের পাশে ২০০৭ সালে এতিম খানাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ২০১২ সাল থেকে সরকারি অনুদান পাওয়া শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয়রা বলেন, এতিমখানাটিতে আমাদের গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামের ছেলেরাই পড়াশোনা করে।প্রকৃতপক্ষে, তাদেরকে ভূয়া এতিম বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মাদ্রাসার মুহতামিম ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এলাকাবাসীকে সরকারি অনুদানের টাকার কোনো হিসাব দিতে পারেনি এতিমখানা পরিচালনা কমিটি।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সমাজসেবা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বলীঘর দায়েমীয়া মাহবুবিয়া কমপ্লেক্স এতিমদের পরিমাণ দেখানো হয় ২৪ জন। প্রতি অর্থ বছরে (এতিম প্রতি মাসিক ২ হাজার টাকা করে) ক্যাপিটেশন গ্রান্ড বার্ষিক বরাদ্দ টাকার পরিমান ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রতি এতিমের মাথা পিছু বাৎসরিক বরাদ্দকে সরকারি ভাবে ক্যাপিটেশন গ্রান্ড বলে। এতিমখানা গুলোতে প্রকৃত এতিম না থাকার কথা স্বীকার করলেও মানবিক কারণে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে বলে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর জানান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000