শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
রাজনগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সিএইচসিপিকে হত্যার হুমকির অভিযোগসৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাফজয়ী তিন ফুটবলারকে সংবর্ধনাবকশীগঞ্জে ১৩ টি পূজা মন্ডপে উপজেলা চেয়ারম্যানের আর্থিক অনুদান বিতরণনবীগঞ্জে হামিদুর রহমান হিলালের দ্বিতীয় বইয়ের মোড়ক উন্মোচনপটুয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এর জন্মদিন পালিতদুমকিতে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক সমন্বয় সভারাজনগরের জোড়া খুনের ৫আসামী গ্রেফতারবকশীগঞ্জে বিনামূল্যে সার ও মাসকালাই বীজ বিতরণরাজনগরের সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক আব্দুল হাকিম রাজসৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে আল্ট্রা সনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

কমলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরী কার্যক্রম

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ৩০৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরী কার্যক্রম শুরু করেছে। যদিও সরকারি সিদ্ধান্তে ৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদানে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্ম নিবন্ধন তথ্য নিয়ে পড়েছেন ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ভোগান্তির কারণ হিসেবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তথ্য ফরম সংগ্রহ করে ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্রসহ রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোতে আর বাবা মার জন্ম নিবন্ধন তৈরীতে দৌড়াচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। এমন ভোগান্তির সাথে সাথে যোগ হয়েছে অর্থ ব্যয়ও। এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রক্ত পরীক্ষা নির্ণয়ে নিচ্ছেন দেড়গুন বেশী টাকা।

জানা যায়, শিক্ষা অধীদপ্তরের নির্দেশনায় ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে তথ্য ফরমসহ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তথ্য ফরমে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল নম্বরযুক্ত জন্ম নিবন্ধন, বাবা মার ডিজিটাল নম্বরসহ জাতীয় পরিচয় পত্রের ও ইউনিয়নের ডিজিটাল নম্বরসহ জন্ম নিবন্ধন ফরম আনতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের রক্তে গ্রুপ নির্ণয় করেও তথ্য প্রদান করতে হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার পারভীন বলেন, শিক্ষা অধীদপ্তর শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য গ্রহণে ইউনিক আইডির ভেতরে আনতে কার্যক্রম চালু করেছে। তথ্য ফরমে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে অবশ্যই সে তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে।

চার পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ তথ্য প্রদান অনেকটা দুরূহ ব্যাপার জেনেও শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু করার নেই। শিক্ষা অধীদপ্তর বিষয়টি বিবেচনা করে অচীরেই সিদ্ধান্ত জানাতে পারে।

শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জন্ম নিবন্ধন ফরম থাকলেও অধিকাংশ অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন কার্ড নেই। আবার অনেক অভিবাবকের জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল নয়, পুরাতন কার্ডে লেখা জন্ম নিবন্ধন কার্ড। এ তথ্য পূরণকালে অভিভাবকদের নতুন করে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিতে হচ্ছে। এতে সমস্যা দেখা দিয়েছে জন্ম নিবন্ধন কার্ডের নতুন নিয়ম কানুনে।

কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অভিভাবক লাভলী আক্তার বলেন- ‘দেশ ডিজিটাল হচ্ছে সেই সাথে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আমার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে এখন আবার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন করতে হচ্ছে। আমার অনেক আগে জন্ম নিবন্ধন করা সেটি অনলাইন নয়, অনলাইন নিবন্ধন করতে দৌড়াতে হচ্ছে ইউনিয়ন কার্যালয়ে।’

এদিকে মাধবপুর ইউনিয়ন এর টিল্লাগাঁও গ্রাম থেকে আসা অন্তরা হক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি কিছুদিন পূর্বে আমার তিন ছেলে মেয়ের জন্মনিবন্ধন কার্ড সরকারি ফি দিয়ে সংগ্রহ করেছি। এখন শুনি জন্মনিবন্ধন কার্ডগুলি অনলাইন হয়নি। তাই আবার নতুন করে আমাকে প্রতিটি কার্ডের জন্য দেড় শত টাকা করে সাড়ে চার শত টাকা ফি দিয়ে নিতে হচ্ছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়- সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্র এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভিড় করছেন।

উপজেলার মরহম আলি, সামসু মিয়া, তামান্না ইসলাম, কাজলি সিনহা দরিদ্র রিকশাচালক ইসলাম মিয়া বলেন, অভিভাবকরা নতুন করে জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে তাদের বাবা-মার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য উপস্থাপন করতে হয়। এদের অধিকাংশ এখন মৃত। বেশীর ভাগই জন্ম নিবন্ধন কার্ড করেননি। তাই ইউনিয়ন ও পৌরসভায় গিয়ে নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে পারছেন না। আবার ইউনিয়ন ও পৌরসভায় জন্ম নিবন্ধন কার্ড করতে গেলে দিতে হচ্ছে কিছু ফি ও তার সাথে যুক্ত হচ্ছে বাসা বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স। করোনা সংক্রমণকালে অভাব অনটনের মাঝে তারা হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে পারছেন না। তাছাড়া ডায়গনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে জন প্রতি দিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা করে। এমনকি ইউনিয়ন থেকে জন্ম নিবন্ধন গ্রহনে ফি প্রদান করতে হচ্ছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ বলেন, অনেক অভিভাবক জন্ম নিবন্ধন কার্ড করেননি। এখন প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধন কার্ড করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাদের বাবা মা মৃত হলে মৃত্যু সনদ প্রদান করা হবে। আর যারা দরিদ্র তাদের হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানে বিবেচনা করে দেওয়া হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলী শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি কার্যক্রমের তথ্য প্রদানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমস্যার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- এ নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সমাধান আসবে বলেও তিনি মনে করেন।

সুত্র: সিলেট ভয়েস

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000