শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বিশ্বনাথে ৩ শতাধিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন নুনু মিয়াবেগম খালেদা জিয়া কে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিএনপির বিক্ষোভসিলেটে বন্যার্তদের নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ করলেন প্রবাসী কমিউনিটি নেতা শফিক উদ্দিনকুমিল্লার দেবীদ্বার থানার মানবিক অফিসার ইনচার্জ প্রত্যাহারে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশবিশ্বনাথে দশঘর ইউনিয়নে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ করলেন এসএম নুনু মিয়াওসমানীনগরে ২কোটি টাকা মূল্যের তিনতলা বাসা দখল নিয়ে দু’পক্ষের উত্তেজনাপররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সম্পৃক্ততার আহ্বানবিশ্বনাথে ‘হাজী তেরা মিয়া ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট’র পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণজামালপুরের বকশীগঞ্জে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিতমৌলভীবাজার মুনিয়া নদী থেকে বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার

এসএসসি’র ফরম ফিলাপ করতে গিয়ে জানতে পারলো জেএসসি তে ফেল, শিক্ষার্থীর জীবন নষ্টের দায় কার

মোঃজাকির হোসেন,নীলফামারী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৭১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নবম ও দশম শ্রেনীতে দুই বছর যথারীতি লেখাপড়া করে, ক্লাস পরীক্ষা ও টেস্ট পরীক্ষায় পাশ করে এসে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে গিয়ে জানতে পারলো জেএসসি তে ফেল থাকার কারণে পরীক্ষা দিতে পারছে না এক শিক্ষার্থী।



এ যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত আজগুবি কাহিনী। কিন্তু এমন বাস্তব ঘটনাই ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

ফলে ওই শিক্ষার্থীর বিগত প্রায় ৪ বছরের সকল পরিশ্রমসহ শিক্ষাজীবনের চরম বিপর্যয় ঘটলেও নির্বিকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। নিজেদের ভুল শিকার করার পরিবর্তে তারা উল্টো মৃত প্রধান শিক্ষকের দোহাই দিয়ে অভিভাবককেই দোষারোপ করে চলেছেন। এতে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অসহায় দরিদ্র পরিবার।

বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের মোঃ জামিল উদ্দিন জানান, তার ছেলে মোসাদ্দেক আলী এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু কয়েকদিন আগে স্কুল থেকে জানানো হয় সে পরীক্ষা দিতে পারবেনা। কারণ অস্টম শ্রেণীতে জেএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে সে ফেল করেছিল। সে বিষয়ে সম্পুরক পরীক্ষা না দেয়ায় তার জেএসসি’র সনদপত্র পাওয়া যায়নি।

অথচ কয়েকদিন আগে স্কুলের কেরানী (অফিস সহকারী) মোঃ রাসেদুল ইসলাম বোর্ডে সামান্য ভুল আছে তা শোধরানোর জন্য এক হাজার টাকা চেয়ে নেন আমার কাছে। এখন বলছে কোনভাবেই সম্ভব নয়। প্রশ্ন হলো আমার ছেলে অস্টম শ্রেনীতে ফেল করে থাকলে তাকে কিভাবে নবম শ্রেনীতে ভর্তি করা হয় এবং কেমন করে সে নবম ও দশম শ্রেনীতে পড়াশোনা করলো এবং টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে পাশও করলো? এতদিন তারা বিষয়টি কেন জানায়নি? কেন তারা আমার ছেলের জীবনের এত বড় ক্ষতি করলো? এর দায় কার? এখন তারা বলছে এতদিন যা খরচ হয়েছে তা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, তারা কি আমার ছেলের বিগত সময়গুলো ফিরিয়ে দিতে পারবে? পারবে তার শিক্ষা জীবনের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে? পারবেনা। মূলতঃ কেরানীর মাধ্যমেই আমার ছেলেকে নবম শ্রেনীতে ভর্তি করিয়েছি। কোন প্রকার ভুল হয়ে থাকলে তিনিই করেছেন। তার কারণেই একজন শিক্ষার্থীর এহেন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। তিনি প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আমাদের বিপদে ফেলেছেন।

তিনি যদি বিষয়টি আগেই দায়িত্বশীলতার সাথে যাচাই বাছাই করতেন তাহলে এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে তবেই আমার ছেলে নবম শ্রেনীতে ভর্তি হতো। কিন্তু তিনি লোভের বশে তা না করে এখন দোষারোপ করছেন সদ্য আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া প্রধান শিক্ষককে। যা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। কারণ এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে আমার বা আমার ছেলের অথবা পরিবারের অন্য কারও কোন কথা হয়নি। যা করেছেন স্কুলের কেরানী রাসেদই করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। দায়ী ব্যক্তির আইনানুগ শাস্তি চাই।
এধরণের সমস্যা আরও কয়েকজনের হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বোতলাগাড়ী মাঝাপাড়ার রমজান আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম, নাজমুল হকের ছেলের ক্ষেত্রেও একইভাবে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় জানতে পারে যে তারা জেএসসিতে পাশ করেনি। এতে এই শিক্ষার্থীদের জীবন এখন প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্কুলের অফিস সহকারী রাসেদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, যা করেছি প্রধান শিক্ষক মৃত মোখলেছুর রহমানের নির্দেশেই করেছি। ভুল হয়ে থাকলে তা প্রধান শিক্ষকের। এক্ষেত্রে আমার কোন দোষ নাই। নবম শ্রেনীতে ভর্তির সময় কেন তার কাগজপত্র না দেখেই তাকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা মিসটেক হয়েছে। অনেক সময় এমন হয়।

সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেহানা ইয়াসমিন মুঠোফোনে জানান, এধরণের কোন বিষয় তার জানা নেই। তাবে এমন হয়ে থাকলে তা সদ্য মৃত প্রধান শিক্ষক কিভাবে করে গেছেন তা তদন্ত করতে হবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অফিস সহকারী যদি এর সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার ব্যাপারেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হালিমা বেগম জানান, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে দোষারোপ করে অনেকেই নিজের অপরাধ ঢাকতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমার স্বামী কোনভাবেই কোন ধরণের অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। নিয়োগ সংক্রান্ত দূর্ণীতির অর্থ কমিটির লোকজনই হাতিয়ে নিয়েছেন। এখন কেরানীও একই পথ ধরেছেন। তাদের অপকর্মের বিচার চাই। একজন মৃত ব্যক্তিকে মিথ্যে দোষারোপ করে তারা কখনই পার পাবেন না।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়োগ বাণিজ্য করতে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অগ্রীম প্রায় ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সভাপতি মনিরুজ্জামান জুন। এক্ষেত্রে তার প্রধান সহযোগি ছিল স্কুলের অফিস সহকারী রাসেদুল ইসলাম। প্রধান শিক্ষক আত্মহত্যা করে মারা যাওয়ার পর সভাপতি ও অফিস সহকারীসহ অন্যান্য যারাই স্কুলের বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত তারা সকলেই সকল অপরাধের জন্য প্রধান শিক্ষককেই দায়ী করে নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000