শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বকশীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নবাগত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতবিনিময়সৈয়দপুরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল ইজিবাইক চালকের ছেলে নয়ননীলফামারীর সৈয়দপুর ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের শরীর তিন খন্ডদুমকিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রানীলফামারীর সৈয়দপুরে ৫ টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই, ২০ লাখ টাকার ক্ষতিওসমানীনগরে বাড়ির উঠান দিয়ে রাস্তা নিতে প্রতিবন্ধি পরিবারে হামলানীলফামারীর সৈয়দপুরে থানা ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিতছাত্রদল নেতা নয়ন হত্যার প্রতিবাদে সৈয়দপুরে বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশওসমানীনগরে কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণবালাগঞ্জে ফ্রান্স প্রবাসী কমিউনিটি নেতা সুমন এর পিতৃবিয়োগ

অসামাজিক কাজে বাধা দেয়ায় মেয়ের জামাইকে ধারালো ক্ষুর দিয়ে গলা কেটে হত্যা, শ্বাশুড়ীসহ ২ জন গ্রেফতার

মোঃ জাকির হোসেন, নীলফামারী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২
  • ৯৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শ্বাশুড়ীর অসামাজিক কাজে বাধা দেয়ায় মেয়ের জামাইকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় একদিন পর শ্বাশুড়ীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেল হাজতে প্রেরনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ।



গ্রেফতার দুইজন হলো উত্তরা আবাসনের নজরুল ইসলাম ওরফে আতাউলের স্ত্রী ও নিহত যুবক আলমগীর হোসেনের শ্বাশুড়ী আবেদা খাতুন ওরফে হাইজানী (৫০) এবং প্রতিবেশী আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. শাহিন (৩১)।

সৈয়দপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৮ মে) বিকাল সাড়ে ৫ টায় সৈয়দপুর শহরের ঢেলাপীর উত্তরা আবাসনের বাঙ্গালী পট্টির ২৪/৭ নম্বর বাসায় ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নীলফামারী মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে থানায় নিয়ে আসে।

রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, শ্বাশুড়ী হাজিয়ানী প্রতিবেশী শাহিনের সহযোগীতায় আলমগীরকে ধারালো ক্ষুর দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে। যা গ্রেফতার আসামীদ্বয় প্রাথমিকভাবে শিকারও করেছে। এর প্রেক্ষিতে তাদের সৈয়দপুর থানার মামলা নং ১০, তারিখ ১৯/০৫/২০২২ এর অধিনে পেনালকোড ৩০২/৩৪ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই উল্লাহ হক প্রধান জানান, নিহত আলমগীর হোসেন প্রায় সাত বছর পূর্বে একই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে আতিকা পারভীনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। কিন্তু আলমগীরের পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেয়ায় শ্বশুড়বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিল।

ঘটনার দিন আলমগীর হোসেন ইজিবাইক চালিয়ে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে শ্বশুড়বাড়িতে আসেন। এ সময় তার স্ত্রী পেশাগত কারনে উত্তরা ইপিজেডে অবস্থান করছিল। শ্বশুড় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এ সময় বাড়ির বাইরে ছিলেন। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শোয়ার ঘরের বিছানায় গলাকাটা অবস্থায় আলমগীরকে দেখতে পায় তার শ্বাশুড়ী।

স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে আলমগীরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী আতিকা পারভীন বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে স্বামী আলমগীর ঘুমের ঘোরে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। এ ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে তিনি মনে করেন। তবে নিহতের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম আত্মহত্যার বিষয়টি সাজানো উল্লেখ করে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করেন।

নিহতের পরিবার তথা ভাই আতিকুলের দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শ্বাশুড়ী জামাইকে হত্যার কথা শিকার করে। তাকে সহযোগীতা করেন প্রতিবেশী আবাসনের বাসা নং ২৪/৩ এর বাসিন্দা আমিনুলের ছেলে শাহিন। এর ফলে আটক অপর দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, শ্বাশুড়ী আবেদা খাতুন প্রতিবেশী শাহিনের সহযোগীতায় ২৪/৭ নং বাসায় বিভিন্ন বয়সী মেয়ে এনে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করে। মেয়ে ও জামাই পেশাগত কাজে বাইরে থাকার সুযোগে এই অসামাজিক কাজ চালাতো তারা। অটোচালক মেয়ে জামাই বিষয়টি জানতে পেয়ে প্রতিবাদ করে। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন বিকাল ৫ টায় আলমগীর বাসায় এসে খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা কান্ডের কথা স্বীকার করে হাজিয়ানী।বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রেফতার কৃৃত্বদের নীলফামারী জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহ্নত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000