সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান বিভাগের সিনিয়র সচিবের দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনজায়েদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন, সৎ ও মেধাবী হওয়ার সাথে সাথে উত্তম চরিত্র গঠন করতে হবে তালামিয কর্মীদের—প্রতিবছরই নেওয়া লাগতে পারে করোনার টিকাএকাধিক মামলার আসামী মাদক ব্যবসায়ী রাশেল মিয়া ওরফে সুমন গ্রেফতারমুজতবা হাসান চৌধুরী নুমান বলেছেন একটি আদর্শ সমাজ গঠনে এক দল পরিশুদ্ধ মানুষ প্রয়োজনবিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বিশ্বনাথের মাকুন্দা নদীতে নৌ-যাত্রা৩ সপ্তাহ যাওয়ার ৩ তিন কোটি টাকার রাস্তায় ফাটলউত্তর কুশিয়ারা আন্তর্জাতিক অনলাইন গ্রুপের বাংলাদেশ সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে সাইদুল ইসলাম মিনুরকে সংবর্ধনা প্রধানবিদ্যালয়ের ভবন উদ্ভোধন উপলক্ষ্যে বিশ্বনাথে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলচেতনানাশক খাইয়ে পটুয়াখালীতে তাবলীগ জামাত সদস্যদের মালামাল লুট

অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য বিশ্বনাথের লামাকাজীতে আটক ২

ফারুক আহমদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১
  • ১৬০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফারুক আহমদঃ সিলেটের বিশ্বনাথে মখলিছুন বেগম (৩২) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের আবদুস সালাম দিলদার মিয়ার কন্যা। শনিবার ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মখলিছুন বেগম।

এঘটনায় নিহতের পিতা আবদুস সালাম দিলদার মিয়া বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১৩ (তাং ২১.০৮.২২ইং)।

ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে লামাকাজী বাজারের নৈশপ্রহরী উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের কমলা মিয়া ও দৌলতপুর ইউনিয়নের সত্তিশ গ্রামের রইছ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত অন্তঃসত্ত্বা মখলিছুন বেগম স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে দুই সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। বাবা দরিদ্র হওয়ায় তিনি লামাকাজী বাজারের নৈশপ্রহরী মির্জারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কমলা মিয়ার বাসায় বেশ কিছু দিন ঝিয়ের কাজ করেন। এর সুবাধে মখলিছুন বেগমকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে কমলা মিয়া তার সত্তোর্ধ্ব বিয়াই উপজেলার সত্তিশ গ্রামের রইছ আলীর সাথে তার (মখলিছুন) বিয়ে দেন। বিয়ের কয়েক দিন পর রইছ আলী জানতে পারেন, তার নব-বিবাহিতা স্ত্রী মখলিছুন বেগম অন্তঃসত্ত্বা। পরে দুই বিয়াই মিলে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করান তার। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর রইছ আলী মখলিছুন বেগমকে নিজের ঘরে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাকে (মখলিছুন) তার পিতার বাড়িতে রেখে যান দুই বিয়াই (কমলা-রইছ)।
এদিকে মখলিছুন বেগমের শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হলে পুলিশের সহায়তায় গত ২০ আগস্ট শুক্রবার তাকে (মখলিছুন) ফের হাসপাতালে পাঠান তার বাবা। ওই দিন রাতেই কমলা মিয়া ও তার বিয়াই রইছ আলীকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। শনিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মখলিছুন বেগম।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, মখলিছুনের পিতা আব্দুস সালাম দিলদার মিয়া তাদের স্থানীয় মেম্বার আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে মামলা দায়ের করতে বিশ্বনাথ থানায় অবস্থান করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একজন অজ্ঞাতনামা নারী নিহতের অভিভাবক পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স করে লাশ নিয়ে লামাকাজীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং পথিমধ্যে মদিনা মার্কেট এলাকায় ওই অজ্ঞাতনামা নারী অ্যাম্বুলেন্স থেকে মেনে যান। এরপর রাত ১২টার দিকে মখলিছুনের বাবা আব্দুস সালাম ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল কালাম থানায় অবস্থানকালে হঠাৎ খবর পান লামাকাজীতে একজন নারীর লাশ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স অনেকক্ষণ ধরে ঘুরাঘুরি করছে। পরে সেটি স্থানীয় জনতা আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে মখলিছুনের বাবা আব্দুস সালাম দিলদার মিয়া ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল কালাম লামাকাজীতে গিয়ে মখলিছুনের লাশ শনাক্ত করেন।

রোববার (২২ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে লাশ মর্গে প্রেরণ করে থানা পুলিশ।

নিহত মখলিছুন বেগমের পিতা আব্দুস সালাম দিলদার মিয়া জানান, মেয়েকে বাড়িতে রেখে চাকুরি সূত্রে তিনি সিলেট শাহপরাণ এলাকায় থাকেন। আর এই সুযোগে মখলিছুন বেগমকে তার অজান্তেই রইছ আলী সাথে অবৈধভাবে বিয়ে দেন কমলা মিয়া। বাড়ির একজন মহিলা কাছ থেকে গত শুক্রবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি (আব্দুস সালাম) খবর পান তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে তিনি (আব্দুস সালাম) বাড়িতে গিয়ে দেখেন মখলিছুন বেগম বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরে পড়ে আছেন। আব্দুস সালাম তৎক্ষণাত স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল কালামকে খবর দিলে রাত ১০টার দিকে তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ধর্ষণ করে মেয়ে মখলেছুন বেগমকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুস সালাম দিলদার মিয়া।

এদিকে নিহত মখলিছুনের চাচা আপ্তাব উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কৈতক হাসপাতালে ১০/১৫ দিন পূর্বে নিয়ে আমার ভাতিজির গর্ভের সন্তান নষ্ট করেছে গ্রেপ্তারকৃত কমলা মিয়ার স্ত্রী ও কন্যা। আর অবৈধ গর্ভপাতের পর থেকে অতিরিক্ত রক্তকরণের ফলেই মখলিছুনের মৃত্যু হয়েছে। কমলা-রইছ দুজনই মখলিছুন বেগমকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ তার।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী আতাউর রহমান বলেন, এঘটনায় কমলা মিয়া ও রইছ আলীকে গ্রেপ্তার এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-15000